সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় বরিশালে পরিবেশ রক্ষার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন

মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় বরিশালে পরিবেশ রক্ষার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক::পরিবেশ রক্ষায় দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে বরিশাল অঞ্চলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, জলাশয় রক্ষা এবং পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে আশাবাদ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিচালিত ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট অভিযানে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (৩০ মার্চ) সোমবার বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে দুইটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভাটাগুলোর কিলন ও চিমনি ভেঙে দেওয়া হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নির্বাপণ করে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।

অভিযানগুলো পরিচালিত হয় বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে অংশ নেন। মাঠপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন।এর আগেও বাবুগঞ্জ, বরিশাল সদর, হিজলা, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জিগজ্যাগ, ড্রাম চিমনি ও পাঁজা প্রযুক্তির পরিবেশবিধ্বংসী ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ইটভাটার আগুন নির্বাপণ করে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংসের মাধ্যমে বায়ুদূষণ ও মাটির ক্ষয়রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,“পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন,“নিয়মিত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনাগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে পারবে না।”

শুধু ইটভাটাই নয়, জলাশয় ও পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা রক্ষায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি বরিশাল নগরীর রুপাতলি এলাকার ‘লালা দিঘি’ ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে। একইভাবে কাউনিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পুকুর ভরাটের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা, জলাশয় ভরাটসহ পরিবেশবিধ্বংসী সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুধু সাময়িক নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।চাপ, অপপ্রচার ও প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান
অভিযান জোরদার হওয়ার পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মনগড়া তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে এসব চাপ ও অপপ্রচারের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস নয়—ষ-আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা বরিশালে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তাদের মতে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

একজন পরিবেশকর্মী বলেন,“এই অভিযান শুধু অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করেনি, এটি পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সবশেষে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সব জেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban